বাংলা
নিরাপদে কীভাবে তথ্য পাঠাবেন
ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য FaujiLeaks-এ নিরাপদে পাঠানোর বাংলা নির্দেশিকা: কী করবেন, কী করবেন না এবং এরপর কী হয়।
আমরা কারা
FaujiLeaks একটি স্বাধীন অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম, যা ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে বেসামরিক ও সামরিক জবাবদিহি নিয়ে কাজ করে। আমাদের নিয়ম সহজ: প্রকাশিত প্রতিটি দাবির পেছনে থাকতে হবে কোনো নথি, সরকারি রেকর্ড বা যাচাইযোগ্য সূত্র।
আমরা মানুষের কণ্ঠ তুলে ধরি। যাঁরা সরকারি অর্থ, প্রতিষ্ঠান বা ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কে জানেন, তাঁরা প্রায়ই কথা বলার নিরাপদ পথ পান না। এই পাতায় বলা হয়েছে কীভাবে আপনি আমাদের কাছে তথ্য পাঠাতে পারেন এবং তার আগে কীভাবে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
আমরা তিনটি দেশকেই একই মানদণ্ডে বিচার করি। বেসামরিক ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রমাণ ও ন্যায্যতার একই মান প্রযোজ্য। কোনো অভিযোগকে কখনো প্রমাণিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয় না।
আমরা কী ধরনের তথ্য পর্যালোচনা করি
নিচের বিষয়গুলো নিয়ে আইনসম্মত ও যাচাইযোগ্য তথ্য থাকলে আপনি তা নীরবে সম্পাদকীয় পর্যালোচনার জন্য জমা দিতে পারেন:
- বেসামরিক বা সামরিক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি
- সরকারি ক্রয় ও প্রতিরক্ষা ক্রয়, অর্থাৎ চুক্তি ও দরপত্র
- ব্যাংকিং, আর্থিক খাত ও রাজনৈতিক অর্থায়ন
- কোম্পানির প্রকৃত মালিকানা
- সরকারি জমি, সম্পত্তি বা কল্যাণ তহবিলের অপব্যবহার
- রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপ, বিচার বিভাগ, পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনী-সংক্রান্ত বিষয়
সবচেয়ে কাজের তথ্য হলো যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়, যেমন আদালতের রেকর্ড, ক্রয় পোর্টাল, কোম্পানির নথি বা নিরীক্ষা প্রতিবেদন। কী ঘটেছে, কখন ঘটেছে, কোন প্রতিষ্ঠান জড়িত এবং কোথা থেকে তা যাচাই করা যায়, তা লিখুন। যা নিজে দেখেছেন আর যা অন্যের কাছে শুনেছেন, তা আলাদা করে লিখুন।
তথ্য দেওয়ার আগে নিজের নিরাপত্তা
বেশিরভাগ ঝুঁকি জটিল নজরদারি থেকে নয়, আসে দৈনন্দিন অভ্যাস থেকে: অফিসের ল্যাপটপ, পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করা ফোন, এমন ফাইল যার ভেতরে এখনো লেখকের নাম লুকিয়ে আছে, কিংবা কোনো সহকর্মীকে প্রয়োজনের বেশি বলে ফেলা।
যা করবেন
- নিজের ব্যক্তিগত ডিভাইস ব্যবহার করুন, যার ওপর আপনার নিয়োগকর্তা, পরিবার বা অন্য কেউ নজর রাখে না।
- বিশ্বস্ত ব্যক্তিগত ইন্টারনেট সংযোগ বা Tor Browser ব্যবহার করুন, যা ওয়েবসাইট থেকে আপনার IP ঠিকানা (ইন্টারনেটে আপনার সংযোগের পরিচয়) গোপন রাখে।
- ফাইল পাঠানোর আগে তার লুকানো মেটাডেটা মুছে ফেলুন, অর্থাৎ লেখকের নাম, তারিখ, ডিভাইস বা অবস্থানের মতো তথ্য।
- শুধু সেই উপকরণ পাঠান, যা আপনার কাছে আইনসম্মতভাবে এসেছে।
- কাজ শেষে ব্রাউজার পুরোপুরি বন্ধ করুন।
যা করবেন না
- অফিসের কম্পিউটার, অফিসের ফোন বা অফিসের নেটওয়ার্ক থেকে কখনো তথ্য পাঠাবেন না। নিয়োগকর্তা নিজেদের ডিভাইস ও নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ রেকর্ড করতে পারেন।
- সহকর্মী, বন্ধু বা পরিবারকে জানাবেন না যে আপনি কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
- গোপনীয় (classified) সরকারি বা সামরিক নথি, ম্যালওয়্যার বা কারও ব্যক্তিগত অন্তরঙ্গ ছবি পাঠাবেন না।
- কোনো সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করবেন না, পাসওয়ার্ড আন্দাজ করবেন না এবং অন্যের অ্যাক্সেস ব্যবহার করবেন না।
- নথিতে কোনো পরিবর্তন করবেন না, আর পর্যালোচনা চলাকালে সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে লিখবেন না।
বিস্তারিত জানতে আমাদের নির্দেশিকা সূত্রের নিরাপত্তা: কী করবেন, কী করবেন না পড়ুন। নির্দেশিকাটি এখন ইংরেজিতে আছে।
কীভাবে তথ্য জমা দেবেন
- নিরাপদ টিপ ফর্ম খুলুন। ফর্মে ভাষা বেছে নেওয়ার সুবিধা আছে, যেখানে হিন্দি, উর্দু ও বাংলা পাওয়া যায়।
- দেশ, খাত (বেসামরিক, সামরিক বা উভয়) এবং বিভাগ বেছে নিন। মামলার অবস্থা তখনই বেছে নিন, যখন কোনো সরকারি সূত্রে তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
- একটি ছোট শিরোনাম ও স্পষ্ট বিবরণ লিখুন। অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।
- চাইলে সহায়ক ফাইল যুক্ত করুন, তবে আগে সেগুলোর মেটাডেটা মুছে নিন।
- নাম-পরিচয় গোপন রাখতে চাইলে যোগাযোগের তথ্য ছাড়া জমা দেওয়ার বিকল্পটি বেছে নিন এবং ইমেইলের ঘর ফাঁকা রাখুন। সে ক্ষেত্রে সম্পাদকীয় দল আপনাকে আর কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না।
- জমা দেওয়ার পর যে রেফারেন্স নম্বর দেখানো হবে, তা কোনো নিরাপদ জায়গায় লিখে রাখুন।
এরপর কী হয়
প্রতিটি তথ্য আমাদের সম্পাদকীয় দল পর্যালোচনা করে। কোনো কিছুই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকাশিত হয় না।
- দাবিগুলো নথি ও সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হয়।
- যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম আসে, প্রকাশের আগে তাঁদের নির্দিষ্ট প্রশ্ন এবং উত্তর দেওয়ার যুক্তিসংগত সময় দেওয়া হয়। একে বলে জবাব দেওয়ার অধিকার।
- প্রতিটি দাবির পাশে তার অবস্থা স্পষ্ট লেখা থাকে: অভিযোগ, তদন্ত চলছে, অভিযোগপত্র দাখিল, আদালতের রায়, আপিল বিচারাধীন, অথবা খালাস বা নিষ্পত্তি।
কোনো তথ্য নতুন অনুসন্ধানের সূচনা হতে পারে, চলমান কাজে পটভূমি যোগ করতে পারে, অথবা যাচাই করা না গেলে আলাদা করে রাখা হতে পারে। তথ্য পাঠালেই অনুসন্ধান বা প্রকাশের নিশ্চয়তা নেই। আমাদের কাজের পদ্ধতি সম্পাদকীয় মানদণ্ড পাতায় আছে (ইংরেজিতে)।
নাম-পরিচয় গোপন রাখা নিয়ে জরুরি কথা
এই পাতা সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়।
সাধারণ প্রশ্ন
টিপ ফর্ম কি বাংলায় পাওয়া যায়?
হ্যাঁ। /expose/ পাতার ফর্মে ভাষা বেছে নেওয়ার সুবিধা আছে, যেখানে বাংলা, হিন্দি ও উর্দু রয়েছে।
নাম-পরিচয় গোপন রেখে কি তথ্য পাঠানো যায়?
হ্যাঁ। যোগাযোগের তথ্য ছাড়া জমা দেওয়ার বিকল্পটি বেছে নিন এবং ইমেইলের ঘর ফাঁকা রাখুন। তখন সম্পাদকীয় দল আপনাকে আর কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না।
FaujiLeaks-এ তথ্য পাঠানো কি নিরাপদ?
ফর্মটি ন্যূনতম তথ্য নেয়, কিন্তু কোনো ওয়েব ফর্মই সম্পূর্ণ গোপনীয়তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। ব্যক্তিগত ডিভাইস ব্যবহার করুন, অফিসের কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক কখনোই নয়, এবং পাঠানোর আগে নিরাপত্তা নির্দেশিকা পড়ুন।
আমার পাঠানো তথ্য কি সরাসরি প্রকাশিত হবে?
না। প্রতিটি তথ্য সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন, দাবিগুলো রেকর্ডের সঙ্গে যাচাই করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। শুধু সূত্রনির্ভর উপকরণই প্রকাশিত হয়।
কী ধরনের তথ্য সবচেয়ে কাজে লাগে?
বেসামরিক বা সামরিক দুর্নীতি, সরকারি ক্রয়, ব্যাংকিং, রাজনৈতিক অর্থায়ন, কোম্পানির মালিকানা বা সরকারি সম্পদের অপব্যবহার নিয়ে আইনসম্মত ও যাচাইযোগ্য তথ্য, বিশেষ করে যা কোনো সরকারি রেকর্ড দিয়ে নিশ্চিত করা যায়।